জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে ফিরছে রোভার স্কাউটিং কোর্স
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে আবারও রোভার স্কাউটিং কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক দক্ষতা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে স্কাউটিংকে যুক্ত করে কোর্সটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আমানউল্লাহ খান গত ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কমিটির ১৫৩তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা জানান। সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কাউটিং বিষয়ে এক ক্রেডিটের কোর্স চালুর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মোবাইল এডুকেশন ও স্কাউটিংকে সমন্বয় করে কোর্সটির কাঠামো প্রণয়ন এবং কোর্সের ক্রেডিট নির্ধারণের বিষয়েও কাজ করা হবে।
উপাচার্য বলেন, স্কাউটিংকে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে হবে। স্কাউটদের কর্মকাণ্ডকে আরও দৃশ্যমান করতে ‘ডিজিটাল স্কাউটিং’ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
আগামী ডিসেম্বর মাসে স্কাউটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক আমানউল্লাহ বলেন, অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য এখন থেকেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। মুট, অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্পসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, খারাপ ল্যাংগুয়েজ শিক্ষার সঙ্গে স্কাউটিংকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়েও কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের কার্যক্রমে একজন রোভার স্কাউটকে যুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। আনন্দময়, সৃজনশীল ও জীবনমুখী শিক্ষার অংশ হিসেবে স্কাউটিংকে আরও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ‘Happy Learning Day’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণে স্কাউটদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়ে অধ্যাপক আমানউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ২ কোটি গাছ লাগাবো। এই কর্মসূচিতে স্কাউটদের সম্পৃক্ত করতে চাই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না; গাছগুলো যেন টিকে থাকে, সে জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’ বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও স্কাউটদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও সমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ভাইস-চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, সবার জন্য সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না; সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। স্কাউটিংয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে দেশের সম্পদশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। একই সঙ্গে রোভার স্কাউটদের নেতৃত্ব বিকাশ, স্বেচ্ছাসেবা, নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের কমিশনার অধ্যাপক ড. খান মঈনউদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মোহা. শহীদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম সেলিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শহীদুল আলম, ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম রেজাউল করিম খানসহ নির্বাহী কমিটির ৩৪ জন সদস্য।
